ইন্টারনেটে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা লাখ লাখ কম্পিউটারকে চিহ্নিত ও তাদের অবস্থান নির্দেশ করার একটি উপায় হচ্ছে ডোমেইন নাম। আমাদের সবার আলাদা-আলাদা নাম আছে বলে যে কেউ আমাদের খুঁজে বের করতে পারে, ডাকলে আমরা সাড়া দিই। একইভাবে আমাদের সবার মোবাইল ফোন নম্বরও চিহ্নিত ও ‘লোকেট’ করার এটি একটি মাধ্যম। এখানে উল্লেখ্য, আমাদের নির্দিষ্ট কোনো একজনের মতো হুবহু আরেকটি মোবাইল নম্বর অন্য কারো নেই। এ নম্বরটি ইউনিক। যদি তা না হতো তাহলে গোটা সিস্টেমটাই কিন্তু সমস্যায় পড়ত। ঠিক একইভাবে হুবহু একই রকম দুটো ডোমেইন নাম থাকা সম্ভব নয়, যদি তা হতো তাহলে ইন্টারনেটে ওই দুটি ওয়েবসাইটকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হতো না। আমরা হরহামেশাই, নানারকম ওয়েব ঠিকানা দেখি, যেমন : www.amardeshbd.com
www.microsoft.com
www.unicef.org
www.networld.net ইত্যাদি।
এখানে মাইক্রোসফট.কম, নেটওয়ার্ল্ড.নেট—এগুলোই হচ্ছে ডোমেইন নাম। প্রতিটি ডোমেইন নামই দুটি অংশে বিভক্ত এবং এ দুটো অংশের মাঝে আছে একটি ডট বা বিন্দুচিহ্ন। এরকম আরো কয়েকটি ডোমেইন নাম হতে পারে:
internic.net
netsol.com
nasa.gov
utexas.edu
reston.va.us
ডোমেইন নামের পর সাব ডোমেইন বলে আরেকটা ব্যাপার আছে। একবার একটি ডোমেইন নাম তৈরি হয়ে গেলে এর অধীনে আবার একাধিক সাব-ডোমেইন তৈরি করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বড় কোম্পানির ডোমেইন নাম হতে পারে নরমপড়.পড়স. এখন এ কোম্পানির সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসের জন্য যদি আলাদা-আলাদা সাব-ডোমেইন তৈরি করতে যাই, তাহলে সেগুলোর সাব-ডোমেইন নামের বিন্যাস এমন হতে পারে :
হোস্ট নাম, সাব-ডোমেইন, সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন, টপ লেভেল ডোমেইন।
উদাহরণ : tiger.newyork.bigco.com
উদাহরণটিতে দেখা যাচ্ছে, একটি কম্পিউটারের কথা বোঝাচ্ছে, যার নাম টাইগার, এটি বিগকো কোম্পানির নিউইয়র্কের অফিসে রাখা আছে। কাজেই এখানে বিগকোর অধীনে টাইগার এবং নিউইয়র্ক হচ্ছে সাব-ডোমেইন। প্রত্যেক ডোমেইনের অধীনে যে একটি করে সাব-ডোমেইন থাকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাধারণত একটি মাত্র ডোমেইন নামের অধীনে একাধিক সাব-ডোমেইন থাকতে পারে।
একটু আগে আমরা টপ লেভেল ডোমেইনের নাম শুনলাম। টপ লেভেল ডোমেইন থেকে জানা যাবে, প্রতিষ্ঠানটি এ ডোমেইন নামের মালিক সেটি কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান। প্রধান প্রধান টপ লেভেল ডোমেইনের মধ্যে আছে :
.কম (.com) : বাণিজ্যিক সংস্থা
.এডু (.edu) : কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
.নেট (.net) : ইন্টারনেট অপারেশনে সংশ্লিষ্ট সংস্থা, যেমন—নেটওয়ার্ক প্রভাইডার এবং নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার
.অর্গ (.org) : বিভিন্ন সংস্থা যারা অন্য কোনো ক্যাটেগরিতে পড়ে না, যেমন—অলাভজনক সংস্থা
.গভ (.gov) : সরসারি সংস্থা
.মিল (.mil) : সামরিক বাহিনী (মূলত ইউএস মিলিটারি)
কান্ট্রি কোড : নির্দিষ্ট দেশের জন্য দুই অক্ষরের একটি কোড। যেমন—বাংলাদেশের জন্য bd, ব্রিটেনের জন্য uk, ফ্রান্সের জন্য fr।
তবে কম্পিউটার কিন্তু ডোমেইন নাম চেনে না, কম্পিউটার চেনে ইন্টারনেট প্রটোকল অ্যাড্রেস তথা আইপি অ্যাড্রেস। প্রতিটি ডোমেইন নামের জন্যই আছে একটি করে আইপি অ্যাড্রেস। একটি হচ্ছে সংখ্যাগত ঠিকানা, যার আছে চারটি অংশ। একেকটি অংশে একেকটি করে সংখ্যা, প্রতিটি আবার বিন্দু চিহ্ন দিয়ে আলাদা করা। ইন্টারনেট এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ডাটা পাঠাতে হলে সেই আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করে। উদাহারণস্বরূপ, আপনি যখন ওয়েব অ্যাড্রেস লিখছেন www.amardeshonline.com, নেটওয়ার্ক কিন্তু এসব কথাবার্তা বুঝবে না। সেটি বুঝবে, আপনি চাইছেন সেই ওয়েব সার্ভারটিকে, যেটির আইপি অ্যাড্রেস হচ্ছে আপনার দেয়া ডোমেইন নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি আইপি অ্যাড্রেস, হয়ত বা ১৯৮.৪১.০.৫। ইন্টারনেটে কাজ করছে ডোমেইন নেম সিস্টেম বলে একটি পদ্ধতি, যেটির কাজ হচ্ছে ডোমেইন নাম এবং প্রতিটি ডোমেইন নামের সঙ্গে যে আইপি অ্যাড্রেসটি সংশ্লিষ্ট তার সম্পর্কিত সব তথ্য বা তালিকা আছে। এটি আছে বলেই আমাদের খটোমটো আইপি অ্যাড্রেস, অর্থাত্ কয়েকটি অর্থহীন সংখ্যা মুখস্থ না করে একটি নির্দিষ্ট নামে ওয়েবসাইটগুলোকে মনে রাখা সম্ভব হচ্ছে। কাজেই ডোমেইন নেম না থাকলে আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করাটা কতটা ঝামেলাপূর্ণ হতো একবার চিন্তা করে দেখুন তো!
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১০
সুপারনোভা নিয়ে চাঞ্চল্য
সেলিনা আক্তার

মহাকাশে অতি উজ্জ্বল সুপারনোভার সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এ ধরনের সুপারনোভা এর আগে তাদের চোখে পড়েনি। এটা যেমনি অতি উজ্জ্বল, তেমনি দীর্ঘ সময় ধরে প্রজ্বলমান। সুপারনোভাটির নাম এসএন ২০০৭ বিআই। ২০০৭ সালের প্রথম দিকে মার্কিন জ্বালানি বিভাগের সুপারনোভা ফ্যাক্টরি (এসএম ফ্যাক্টরি) প্রকল্প এটি খুঁজে পায়। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে একটি রোবটিক টেলিস্কোপ। যে তারাটি বিস্ফোরণ হয়েছে তেমন তারার খোঁজ মহাকাশে এর আগে মেলেনি। একটি বামন গ্যালাক্সিতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তারা এবং তার বিস্ফোরণের ব্যতিক্রমী আচরণ ভাবিয়ে তুলেছে গবেষকদের। বছর দুয়েক ধরে বিষয়টি নিরীক্ষা করেও উপসংহারে পৌঁছা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে কাজ অব্যাহত রয়েছে।
সুপারনোভার বিচ্ছুরণ নিয়মিত কোনো ঘটনা নয়। বহু সময় অন্তর হঠাত্ করেই এমন কোনো বিস্ফোরণের দেখা মেলে। তাই বিস্ফোরণের শুরু থেকে রেকর্ড রাখা সম্ভব হয় না অনেক ক্ষেত্রে। আবার অনেক ক্ষেত্রে আলোক বিচ্ছুরণের বিস্তারিত ধরা পড়ে। বার্কলেতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে এমন কিছু ঘটনার রেকর্ড রয়েছে। সর্বশেষ বিস্ফোরণের রেকর্ড নিয়ে বার্কলের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে আগামী দেড় বছর কাজ করবেন ইসরাইলের ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে। সুপারনোভাটি ধীরে ধীরে ধূসর হয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, যে তারাটি বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটি ছিল অতিদানব তারা। আমাদের সূর্যের ভরের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি ছিল তার ভর। হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম ছাড়াও তারাটিতে ছিল কিছু আদি উপাদান। সব কিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, তারাটি হয়তো সৃষ্টি হয়েছে মহাকাশের প্রথম দিকে।
জ্যোতি পদার্থ বিজ্ঞানী এবং এসএন ফ্যাক্টরির সদস্য পিটার নিউজেন্ট বলেছেন, তারাটির কেন্দ্রের ভরই হয়তো ছিল ১০০ সৌর ভরের সমান। তারার ভেতরে অতি উচ্চ তাপ প্রবাহে সৃষ্ট ইলেকট্রোন এবং পজিট্রোন তারার কেন্দ্রকে ভেঙে তারা থেকে রক্ষা করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্টোনমি বিভাগের অধ্যাপক অ্যালেক্স ফিলিপেনকো সুপারনোভা বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য কাজে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, এসএন ২০০৭ বিআই বিস্ফোরণটি অতিদানব তারাতেই হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর তৈরি হয় একটি কৃষ্ণ গহ্বরের। যদিও এসএন ২০০৭ বিআইর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। তাই কয়েক দশক ধরে যা তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করে আনা হচ্ছে অর্থাত্ দানব তারার বিস্ফোরণের পর কৃষ্ণ গহ্বর তৈরি হয় বলে যে কথা বলে আসা হচ্ছে তা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হচ্ছে। কৃষ্ণ গহ্বর তো হয়ইনি এবং তারার কেন্দ্র প্রায় অটুট রয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারের ডিসেম্বর সংখ্যায় গবেষণার সর্বশেষ অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পলোমার অবজারভেটরিতে স্বয়ংক্রিয় অসচিন টেলিস্কোপ সুপারনোভার সন্ধান পায়। পরে এটি শনাক্ত করে এসএন ফ্যাক্টরি। এরা এ পর্যন্ত সব ধরনের প্রায় হাজারখানেক সুপারনোভা শনাক্ত করেছে। তবে এসএন ২০০৭ বিআই ধরনের সুপারনোভা এটাই প্রথম। বিস্ফোরণটি পরে হাওয়াইয়ের মাওনা কিয়া পর্বতের ওপর স্থাপিত ১০ মিটার বে-১ টেলিস্কোপ এবং চিলির ভেরিলার্জ টেলিস্কোপ (ভিএলটি) দিয়েও প্রত্যক্ষ করা হয়। কেক এবং ভিএলটি যে চিত্র দিয়েছে তাতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে, রেডিওঅ্যাকটিভ নিকেল।
নিউজেন্ট বলেন, কোনো বামন গ্যালাক্সিতে এ ধরনের সুপারনোভার সন্ধান মিলবে তেমনটি কখনোই ধারণা করা যায়নি। এ ধরনের গ্যালাক্সিগুলো হয় খুবই ধূসর। এসএন ২০০৭ বিআইকে তাই গবেষণার জন্য আদর্শ ঘটনা মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাদের প্রাথমিক বিশ্বাস, মহাকাশের আদি পর্যায়ের ওই গ্যালাক্সিতে সংঘটিত বিস্ফোরণ যথাযথভাবে নিরীক্ষার মাধ্যমে আদি মহাকাশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। গবেষকরা এ বিস্ফোরণের শিরোনাম দিয়েছেন ‘পেয়ার ইন্সট্যাবিলিটি সুপারনোভা এক্সপ্লোসন’। বিস্ফোরণের পর এর উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।
ছবিতে শিল্পীর কল্পনায় এসএন ২০০৭ বিআই থেকে বেরিয়ে আসা পদার্থ দেখানো হয়েছে। সাদা অংশটি হলো রেডিওঅ্যাকটিভ নিকেল কোর। কালো অংশে অক্সিজেন এবং কার্বনের মতো হালকা উপাদানের উপস্থিতি বোঝানো হয়েছে।
সুপারনোভার বিচ্ছুরণ নিয়মিত কোনো ঘটনা নয়। বহু সময় অন্তর হঠাত্ করেই এমন কোনো বিস্ফোরণের দেখা মেলে। তাই বিস্ফোরণের শুরু থেকে রেকর্ড রাখা সম্ভব হয় না অনেক ক্ষেত্রে। আবার অনেক ক্ষেত্রে আলোক বিচ্ছুরণের বিস্তারিত ধরা পড়ে। বার্কলেতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডে এমন কিছু ঘটনার রেকর্ড রয়েছে। সর্বশেষ বিস্ফোরণের রেকর্ড নিয়ে বার্কলের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে আগামী দেড় বছর কাজ করবেন ইসরাইলের ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে। সুপারনোভাটি ধীরে ধীরে ধূসর হয়ে যাচ্ছে।
এখন পর্যন্ত বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, যে তারাটি বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটি ছিল অতিদানব তারা। আমাদের সূর্যের ভরের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি ছিল তার ভর। হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম ছাড়াও তারাটিতে ছিল কিছু আদি উপাদান। সব কিছু মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, তারাটি হয়তো সৃষ্টি হয়েছে মহাকাশের প্রথম দিকে।
জ্যোতি পদার্থ বিজ্ঞানী এবং এসএন ফ্যাক্টরির সদস্য পিটার নিউজেন্ট বলেছেন, তারাটির কেন্দ্রের ভরই হয়তো ছিল ১০০ সৌর ভরের সমান। তারার ভেতরে অতি উচ্চ তাপ প্রবাহে সৃষ্ট ইলেকট্রোন এবং পজিট্রোন তারার কেন্দ্রকে ভেঙে তারা থেকে রক্ষা করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্টোনমি বিভাগের অধ্যাপক অ্যালেক্স ফিলিপেনকো সুপারনোভা বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য কাজে সহায়তা করছেন। তিনি বলেন, এসএন ২০০৭ বিআই বিস্ফোরণটি অতিদানব তারাতেই হয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বিস্ফোরণের পর তৈরি হয় একটি কৃষ্ণ গহ্বরের। যদিও এসএন ২০০৭ বিআইর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। তাই কয়েক দশক ধরে যা তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করে আনা হচ্ছে অর্থাত্ দানব তারার বিস্ফোরণের পর কৃষ্ণ গহ্বর তৈরি হয় বলে যে কথা বলে আসা হচ্ছে তা পুরোপুরি সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হচ্ছে। কৃষ্ণ গহ্বর তো হয়ইনি এবং তারার কেন্দ্র প্রায় অটুট রয়েছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারের ডিসেম্বর সংখ্যায় গবেষণার সর্বশেষ অবস্থা বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির পলোমার অবজারভেটরিতে স্বয়ংক্রিয় অসচিন টেলিস্কোপ সুপারনোভার সন্ধান পায়। পরে এটি শনাক্ত করে এসএন ফ্যাক্টরি। এরা এ পর্যন্ত সব ধরনের প্রায় হাজারখানেক সুপারনোভা শনাক্ত করেছে। তবে এসএন ২০০৭ বিআই ধরনের সুপারনোভা এটাই প্রথম। বিস্ফোরণটি পরে হাওয়াইয়ের মাওনা কিয়া পর্বতের ওপর স্থাপিত ১০ মিটার বে-১ টেলিস্কোপ এবং চিলির ভেরিলার্জ টেলিস্কোপ (ভিএলটি) দিয়েও প্রত্যক্ষ করা হয়। কেক এবং ভিএলটি যে চিত্র দিয়েছে তাতে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিপুল পরিমাণ বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে, রেডিওঅ্যাকটিভ নিকেল।
নিউজেন্ট বলেন, কোনো বামন গ্যালাক্সিতে এ ধরনের সুপারনোভার সন্ধান মিলবে তেমনটি কখনোই ধারণা করা যায়নি। এ ধরনের গ্যালাক্সিগুলো হয় খুবই ধূসর। এসএন ২০০৭ বিআইকে তাই গবেষণার জন্য আদর্শ ঘটনা মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তাদের প্রাথমিক বিশ্বাস, মহাকাশের আদি পর্যায়ের ওই গ্যালাক্সিতে সংঘটিত বিস্ফোরণ যথাযথভাবে নিরীক্ষার মাধ্যমে আদি মহাকাশ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। গবেষকরা এ বিস্ফোরণের শিরোনাম দিয়েছেন ‘পেয়ার ইন্সট্যাবিলিটি সুপারনোভা এক্সপ্লোসন’। বিস্ফোরণের পর এর উজ্জ্বলতা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।
ছবিতে শিল্পীর কল্পনায় এসএন ২০০৭ বিআই থেকে বেরিয়ে আসা পদার্থ দেখানো হয়েছে। সাদা অংশটি হলো রেডিওঅ্যাকটিভ নিকেল কোর। কালো অংশে অক্সিজেন এবং কার্বনের মতো হালকা উপাদানের উপস্থিতি বোঝানো হয়েছে।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)